Homeজেলাস্বাভাবিক প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রসূতির মৃত্যু, বাগনানের নার্সিংহোমে বিক্ষোভ

স্বাভাবিক প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রসূতির মৃত্যু, বাগনানের নার্সিংহোমে বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক; স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হল ২২ বছরের এক প্রসূতির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে বাগনানের মানকুর মোড় এলাকার একটি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়ায়।
resizeplus_eisamay_2026-07-22_g0sqoz3w_dewszx

নিউজ ডেস্ক; স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হল ২২ বছরের এক প্রসূতির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে বাগনানের মানকুর মোড় এলাকার একটি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়ায়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নার্সিংহোম চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। যদিও চিকিৎসায় কোনও গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, প্রসবের সময় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

মৃতার নাম অনন্যা জানা আদক। তাঁর বাড়ি বাগনানের কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরামপুর এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনন্যা ছিলেন সন্তানসম্ভবা। রবিবার তাঁকে বাগনানের মানকুর মোড়ের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই রবিবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম সন্তান। সদ্যোজাত শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পরিবারের দাবি, সন্তান প্রসবের পর প্রথম দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর আচমকা অনন্যার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, অনন্যার চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নার্সিংহোম চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা বিকাশ বর নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রসবের সময় নার্সিংহোমে চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, নার্সিং স্টাফরাই প্রসব করিয়েছিলেন। এমনকি অনন্যার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও পরিবারের সদস্যদের সময়মতো বিষয়টি জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রণব হাজরাও নার্সিংহোমে পৌঁছন। তিনিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার খবর পেয়ে বাগনান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে পরিবারের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, ওই নার্সিংহোমে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকের উপস্থিতিতেই অনন্যার স্বাভাবিক প্রসব হয়েছিল। প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নার্সিংহোমের তরফে রক্তের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

নার্সিংহোমের এক প্রতিনিধির বক্তব্য, চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অনন্যার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় গাফিলতির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তাঁরা মানছেন না।

এ দিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মৃতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সোমবার বাগনান থানার পুলিশ অনন্যার দেহ উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বাগনান থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে এই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পরিবারের তরফে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না, সে দিকেও নজর রয়েছে।

একদিকে সদ্যোজাত শিশুর সুস্থ থাকার খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও, অন্যদিকে মাত্র ২২ বছর বয়সি মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

No Comments