Homeজেলাহাওড়া স্টেশনে ব্যাগ খুলতেই ৬৭ লক্ষ টাকা! সিআইবির হাতে আটক মহারাষ্ট্রের যাত্রী

হাওড়া স্টেশনে ব্যাগ খুলতেই ৬৭ লক্ষ টাকা! সিআইবির হাতে আটক মহারাষ্ট্রের যাত্রী

নিউজ ডেস্ক; রাতের হাওড়া স্টেশন। নিয়মিত টহল চালানোর সময় আরপিএফের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (সিআইবি)-এর নজরে পড়েছিলেন এক যাত্রী। তাঁর আচরণ এবং কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা।
resizeplus_ChatGPT Image Sep 21, 2026, 02_03_42 PM

নিউজ ডেস্ক; রাতের হাওড়া স্টেশন। নিয়মিত টহল চালানোর সময় আরপিএফের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (সিআইবি)-এর নজরে পড়েছিলেন এক যাত্রী। তাঁর আচরণ এবং কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা। এরপর ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা নগদ

বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে আরপিএফ। একই সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয়েছে আয়কর দফতরকে। এত টাকা কোথা থেকে এল, কী উদ্দেশ্যে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পিছনে কোনও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তির নাম সুজিত কালে। তিনি মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, মুম্বই মেল করে তিনি হাওড়ায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর দাবি, গয়ার টাউনশিপ এলাকায় তাঁর একটি দোকান রয়েছে। সেই ব্যবসার প্রয়োজনে কলকাতার বড়বাজার থেকে সোনা ও রুপো কেনার উদ্দেশ্যেই তিনি হাওড়ায় এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি বা টাকার উৎস সংক্রান্ত সন্তোষজনক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি বলেই আরপিএফ সূত্রে খবর। ফলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, হাওড়া স্টেশনে সিআইবি দলের সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সেই সময়ই ওই যাত্রীর গতিবিধি তাঁদের সন্দেহের মধ্যে আসে। তাঁকে থামিয়ে প্রথমে পরিচয় ও যাত্রার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কথাবার্তায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে হওয়ায় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগটি পরীক্ষা করা হয়। আর সেই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় বিপুল নগদ অর্থ।

নগদ টাকা উদ্ধারের পরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আয়কর দফতরের আধিকারিকদেরও খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর উদ্ধার হওয়া টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যবসায়িক দাবি এবং এত টাকা নগদে বহনের কারণ খতিয়ে দেখা হতে পারে।

তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, সোনা-রুপো কেনার জন্য সত্যিই ওই টাকা নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন কি না। যদি এসে থাকেন, তা হলে টাকার উৎস কী এবং সেই অর্থের বৈধতার পক্ষে কোনও নথি রয়েছে কি না—সেগুলিও যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ওই টাকা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

হাওড়া স্টেশনে এই ধরনের বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও আরপিএফ এবং সিআইবির বিভিন্ন অভিযানে যাত্রীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল জংশন হওয়ায় হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসেন এবং এখান থেকে দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াত করেন। ফলে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে স্টেশনে নজরদারি চালানো হয়।

বিশেষ করে উৎসবের মরসুম কিংবা নির্বাচনের সময় নগদ অর্থ পরিবহণের উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। তবে কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হলেই তা বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। বর্তমান ক্ষেত্রেও আয়কর দফতরের তদন্তের পরেই ৬৭ লক্ষ টাকার উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

এখন সুজিত কালেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অর্থের নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। সোনা-রুপোর ব্যবসার সঙ্গে তাঁর দাবির কোনও যোগ রয়েছে কি না, থাকলে সেই লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে কি না—সবই খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট দফতর।

হাওড়া স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকার প্রকৃত উৎস বা এর সঙ্গে কোনও বেআইনি লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved