Homeদার্জিলিংশিলিগুড়িফাঁসিদেওয়াএলাকায় থাকেন না বিধায়ক, সার্টিফিকেট পেতে ছুটছেন মানুষ! ফাঁসিদেওয়ায় বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে ক্ষোভ

এলাকায় থাকেন না বিধায়ক, সার্টিফিকেট পেতে ছুটছেন মানুষ! ফাঁসিদেওয়ায় বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক; বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে নিজের বিধানসভা এলাকার বাইরে থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক
resizeplus_eisamay_2026-09-21_lc7s9wgd_dwszw

নিউজ ডেস্ক; বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে নিজের বিধানসভা এলাকার বাইরে থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মুকে ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, চাকরির আবেদন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা কিংবা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটের মতো প্রয়োজনীয় নথিতে বিধায়কের স্বাক্ষর দরকার হলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কারণ, বিধায়ককে এলাকায় নিয়মিত পাওয়া যায় না।

দুর্গার বাড়ি ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা এলাকার বিধাননগরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। স্থানীয়দের বক্তব্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথম দিকে তিনি এলাকার মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা ছিলেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করা যেত। প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটেও মিলত স্বাক্ষর। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দুর্গা মুর্মু মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের শিবমন্দির এলাকায় চলে যান। ফলে বিধাননগর, খড়িবাড়ি, হাঁসখোয়া এবং ফাঁসিদেওয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলে অন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। কেউ কেউ মহকুমা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর করাচ্ছেন বলেও দাবি।

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিধায়ক নিজের বিধানসভা এলাকায় মূলত দলীয় বৈঠক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া খুব একটা আসেন না। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কমেছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিধায়ক।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির শিলিগুড়ি জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি পূর্ত দফতরের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রয়েছেন। বিধায়ককে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্যার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হবে কি না জানতে চাওয়া হলেও বৈঠকের কথাই জানান তিনি।

অন্য দিকে, ফাঁসিদেওয়া থেকে নির্বাচিত মহকুমা পরিষদের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি রোমা রেশমি এক্কা বলেন, বিধায়ক এলাকায় থাকেন না বলে তিনিও শুনেছেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নিয়ে তাঁর কাছে আসছেন। মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে তাঁকে বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে শুধুমাত্র স্বাক্ষর করতে হচ্ছে।

তবে এই অভিযোগের পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে। দুর্গা মুর্মুর দাবি, তিনি বিধাননগরেই থাকেন। বিরোধীরা রাজনৈতিক কারণে নানা কথা বলছেন বলেও তাঁর বক্তব্য। বিধায়ক জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কাজে তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ঘোষপুকুর এবং বাতাসিতে বিধায়ক কার্যালয় করা হয়েছে। সেখানে কর্মীও থাকেন বলে দাবি তাঁর। প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের জন্য যে কোনও বাসিন্দা ওই অফিসে গেলেই পরিষেবা পাবেন বলে জানিয়েছেন দুর্গা।

এর মধ্যেই ফাঁসিদেওয়া-সহ শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রামাঞ্চলের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের একটি বড় অংশ পদত্যাগ করায় বেশ কিছু কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। পরে মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি পদত্যাগ করার পর কর্মাধ্যক্ষদের একাংশও পদত্যাগ করেন বলে অভিযোগ।

যদিও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের নির্বাচিত পদ থেকে সরে দাঁড়াননি। এর ফলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। সভাধিপতির পদ শূন্য হওয়ার পরে তা পূরণ করা নিয়েও জেলা প্রশাসনের সামনে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এই প্রশাসনিক টানাপড়েনের মধ্যেই যোগ হয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা পাওয়ার প্রশ্ন। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পেতে মানুষকে কোথায় যেতে হবে, কে স্বাক্ষর করবেন এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে কী ভাবে পাওয়া যাবে—তা নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠছে।

ফাঁসিদেওয়ার ক্ষেত্রে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। স্থানীয়দের একাংশ যেখানে তাঁকে এলাকায় না থাকার জন্য দায়ী করছেন, সেখানে বিধায়ক পাল্টা দাবি করছেন, তিনি বিধাননগরেই থাকেন এবং ঘোষপুকুর ও বাতাসিতে বিধায়ক অফিসের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই এখন মূল প্রশ্ন—বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি নথি ও পরিষেবা কতটা সহজে পাচ্ছেন। প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের এই সমস্যার সমাধান কী ভাবে হবে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved