Homeপশ্চিম মেদিনীপুরগড়বেতাগড়বেতায় লেনিনের মূর্তি ভাঙা নিয়ে চাপানউতোর, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ সিপিএমের

গড়বেতায় লেনিনের মূর্তি ভাঙা নিয়ে চাপানউতোর, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ সিপিএমের

নিউজ ডেস্ক; পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গড়বেতার আমলাগোড়া তিনমাথার মোড়ে লেনিনের আবক্ষ মূর্তির মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে
resizeplus_Screenshot 2026-09-16 123214_edited

নিউজ ডেস্ক; পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গড়বেতার আমলাগোড়া তিনমাথার মোড়ে লেনিনের আবক্ষ মূর্তির মাথা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পালের অভিযোগ, সোমবার বিকেলের পর থেকেই গড়বেতা ও শালবনি এলাকায় দলের একাধিক কর্মী এবং কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আমলাগোড়ায় লেনিনের মূর্তিটি ভাঙা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। ঘটনার পিছনে বিজেপির লোকজন জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অন্য দিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন গড়বেতার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বর্তমানে এলাকায় উন্নয়নের কাজে ব্যস্ত। মূর্তি ভাঙার মতো ঘটনায় দলের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, লেনিনের বিরোধী অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এমনকি সিপিএমের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দলের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমলাগোড়ায় লেনিনের এই আবক্ষ মূর্তিটি ১৯৮৬ সালের ৯ মে স্থাপন করা হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা তৎকালীন সিপিএম নেতা সুকুমার সেনগুপ্ত মূর্তিটির আবরণ উন্মোচন করেছিলেন। পরবর্তীকালে জায়গাটি স্থানীয় ভাবে ‘লেনিন মোড়’ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠে।

এটি অবশ্য প্রথম বার নয় যে ওই এলাকায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠল। ২০১১ সালেও মূর্তিটির মাথা ভেঙে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে পুরনো রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের উদ্যোগে মূর্তিটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।

এ বারের ঘটনায় পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মূর্তি কী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল, ঘটনার সময় কারা এলাকায় ছিলেন এবং এর পিছনে কারও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্য কয়েকটি এলাকায় সিপিএম কর্মী ও দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে পৃথক ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপাতত গড়বেতার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

No Comments

আরও পড়ুন