Homeজেলাশান্তিপুর হাসপাতালে রক্তদান সচেতনতা কর্মসূচি, যুব ও নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান—ন্যাশনাল ব্লাড অ্যাক্টের দাবি

শান্তিপুর হাসপাতালে রক্তদান সচেতনতা কর্মসূচি, যুব ও নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান—ন্যাশনাল ব্লাড অ্যাক্টের দাবি

নিউজ ডেস্ক : স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে হাসপাতালের
1afe8c5a-6861-4a49-a878-23e58a8b21cc

নিউজ ডেস্ক : স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রক্তদান আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুব ও নারী সমাজকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের রক্তদান ও রক্তসংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে একটি ‘ন্যাশনাল ব্লাড অ্যাক্ট’ বা জাতীয় রক্ত আইন তৈরির দাবিও সামনে এসেছে।

সংগঠনের আসন্ন চতুর্থ বার্ষিক রাজ্য সম্মেলনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক ভাবে সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি চলছে। আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি কলকাতায় সংগঠনের চতুর্থ রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা, রক্তদান আন্দোলনের প্রসার এবং রক্তদাতাদের আরও বেশি করে এই সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

শান্তিপুরের অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সম্পাদক রাজেশ পালিত। তিনি জানান, ১ অক্টোবর জাতীয় রক্তদান দিবসকে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ পক্ষকালব্যাপী রক্তদান সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, এই প্রচারের পরিধি রাজ্যের পাহাড় থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলাতেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রসার এবং রক্তদান আন্দোলনকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যে সংগঠনের কর্মসূচি চলছে।

রাজেশ পালিতের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংগঠনটির আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় রক্তদান নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল রক্তদানের ক্ষেত্রে যুব সমাজ এবং মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো। সাগরদিঘিতে অনুষ্ঠিত রাজ্য সম্মেলনে এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রক্ত সংগ্রহের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক জানান, ২০২৫ সালের রাজ্য সম্মেলনের হিসাব অনুযায়ী তাঁদের সংগঠন গোটা রাজ্যে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮২৬ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে ২ লক্ষ ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যের ৯০টি সরকারি ব্লাড ব্যাংককে কেন্দ্র করে সমন্বিত ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে রক্ত সংরক্ষণের পর রক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখা হয়। রাজেশ পালিত দাবি করেন, ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সংরক্ষণের পর তা অকারণে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনও একটি ব্লাড ব্যাংকে নির্দিষ্ট সময়ে রক্তের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে এবং অন্য কোথাও তার প্রয়োজন থাকলে, ঘাটতি থাকা ব্লাড ব্যাংকে সেই রক্ত দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয় বলে তিনি জানান।

তবে কোনও রক্তের নমুনায় সংক্রামক বা ক্ষতিকারক জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষায় ধরা পড়লে রোগীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, রক্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সংগঠনের নিজস্ব জেলাভিত্তিক রক্তদাতা বা ডোনার ডেটাবেস সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের ডোনারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্তদানের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে সংগঠনের দাবি।

শুধু সচেতনতা অভিযানেই সীমাবদ্ধ না থেকে রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরিকাঠামো আরও উন্নত করার দাবিও তোলা হয়েছে এদিনের কর্মসূচিতে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি আরবিটিসি বা আঞ্চলিক রক্তসঞ্চালন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমাণ রক্তদান বাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা এবং মানুষের কাছে রক্তদান কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি ব্লাড ব্যাংকে কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথক ভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকলে চিকিৎসাক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে। সেই কারণে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রক্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণের উপরেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিনের কর্মসূচিতে রক্তদান শিবিরের আয়োজনের ধরন নিয়েও সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। রাজেশ পালিতের অভিযোগ, অনেক সময় রক্তদান শিবিরে অপ্রয়োজনীয় ভাবে ভিআইপি সংস্কৃতি এবং অতিরিক্ত মাইকের ব্যবহার দেখা যায়। তাঁর মতে, রক্তদান শিবিরের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী মানুষদের সম্মান, স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি রক্তদান শিবিরের প্রকৃত ‘ভিআইপি’ হলেন রক্তদাতা নিজেই। তাই শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে রক্তদাতাদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া এবং তাঁদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মত সংগঠনের।

শান্তিপুরের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আসন্ন রাজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই স্বেচ্ছায় রক্তদানের আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার ডাকও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজ ও মহিলাদের আরও বেশি সংখ্যায় রক্তদানে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে এই সচেতনতা অভিযান কতটা সাড়া ফেলে এবং সংগঠনের ঘোষিত ২ লক্ষ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কতটা পূরণ হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved