Homeনদিয়ারানাঘাটবগুলা দুর্গাপুর রেলগেটে উচ্ছেদ হওয়া দুস্থ পরিবারগুলির পাশে বিধায়ক অসীম বিশ্বাস, পুনর্বাসনের আশ্বাস

বগুলা দুর্গাপুর রেলগেটে উচ্ছেদ হওয়া দুস্থ পরিবারগুলির পাশে বিধায়ক অসীম বিশ্বাস, পুনর্বাসনের আশ্বাস

নিউজ ডেস্ক : রেলের উন্নয়নমূলক কাজের জেরে বসতভিটে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া একাধিক দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। বগুলা দুর্গাপুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির
WhatsApp Image 2026-09-13 at 6.01.57 PM

নিউজ ডেস্ক : রেলের উন্নয়নমূলক কাজের জেরে বসতভিটে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়া একাধিক দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। বগুলা দুর্গাপুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আশ্বাসও দেন বিধায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বগুলা দুর্গাপুর রেলগেট সংলগ্ন রেললাইনের ধারে বেশ কিছু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল এবং দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি রেলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের জন্য ওই এলাকায় থাকা কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে আচমকাই মাথার উপর থেকে ছাদ হারিয়ে কার্যত বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি।

উচ্ছেদের পর তাঁদের সামনে বড় হয়ে দাঁড়ায় থাকার জায়গার সমস্যা। যাঁদের অনেকেরই স্থায়ী আয়ের সংস্থান নেই, তাঁদের পক্ষে নতুন করে ঘর তৈরি করে অন্যত্র বসবাসের ব্যবস্থা করা কার্যত কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। সেখানে গিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা শোনেন।

পরিবারগুলির সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে বসবাসের নিরাপদ জায়গা এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি। দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার পর উচ্ছেদ হওয়ায় অনেক পরিবারই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বলে জানা যায়। তাঁদের বক্তব্য ও সমস্যার কথা শোনার পর বিধায়ক পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিধায়ক অসীম বিশ্বাসের বক্তব্য, রেলের উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত কাজ দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই উন্নয়নের কারণে যাঁদের দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা হারাতে হচ্ছে, তাঁদের সমস্যার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক দিকের সমন্বয় থাকা দরকার বলেই মত তাঁর।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সরকারি জমির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। বিধায়কের তরফে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে যোগ্য পরিবারগুলির জন্য পাট্টার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় এনে পাকা বাড়ি তৈরির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তবে এই আশ্বাস কবে বাস্তব রূপ পাবে, সেটিই এখন উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে মাথার উপর ছাদ থাকলেও বর্তমানে তাঁদের অনেকেই অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। ফলে দ্রুত কোনও স্থায়ী সমাধান হলে তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিধায়কের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের মধ্যে। পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

একদিকে রেলের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে সেই কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পুনর্বাসন—দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বগুলা দুর্গাপুর রেলগেট সংলগ্ন উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির ক্ষেত্রে আগামী দিনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর তাঁদের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved