Homeকলকাতানেপালের হড়পা বানে বিপাকে খরাজ, পোখরা থেকে দেশে ফেরার মরিয়া লড়াই

নেপালের হড়পা বানে বিপাকে খরাজ, পোখরা থেকে দেশে ফেরার মরিয়া লড়াই

নিউজ ডেস্ক: একদিকে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে পাহাড় জুড়ে নামা ধস ও হড়পা বানের তান্ডব। প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের
images (2)

নিউজ ডেস্ক: একদিকে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে পাহাড় জুড়ে নামা ধস ও হড়পা বানের তান্ডব। প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের থাবায় এক চরম আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঠিক মাঝখানেই আটকে পড়েছেন টলিউডের প্রখ্যাত ও প্রবীণ অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। নতুন এক সিনেমার শুটিংয়ের কাজে নেপালের পোখরায় গিয়ে আপাতত বন্দিদশায় দিন কাটছে তাঁর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দেশে ফেরার সব পরিকল্পনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সড়কপথ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পুরোপুরি ভেস্তে গিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানান, পরিস্থিতি কতটা জটিল ও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ঘন জঙ্গলের গভীরে টানা বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা হাড়কাঁপানো অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন পুরো শুটিং টিম। অভিনেতা জানান, বুধবার নির্ধারিত শিডিউল মেনে শুটিং করার সময় হঠাৎ করেই আকাশ ভেঙে নামেন প্রবল বৃষ্টিপাত। কোনও উপায় না পেয়ে জঙ্গলের আবহে টানা প্রায় ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় শুধু বৃষ্টির মধ্যেই ভিজতে ভিজতে বসে থাকতে বাধ্য হন তাঁরা। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলেও অসীম প্রতিকূলতার মধ্যেই শটের কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বারবার বাধা পায় লাইট, ক্যামেরা ও সাউন্ডের কাজ।

অভিনেতা আরও জানান, এই ধরনের দুর্ভোগ একবার নয়, বেশ কয়েকবার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৭ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালেই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল অভিনেতার। সেইমতো বিমানের টিকিটও অগ্রিম কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিমানের টিকিটগুলি ‘নন-রিফান্ডেবল’ (অফেরতযোগ্য) হওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রডাকশন টিমকে অনুরোধ করেছিলেন ২৬ তারিখ বিকেলের মধ্যেই শুটিং শেষ করে ফেলার জন্য। খরাজের কথায়, “আমি এদের বলেইছিলাম যেভাবেই হোক ২৬ তারিখে তাড়াহুড়ো করে হলেও কাজ শেষ করে ফেলা দরকার। কারণ নন-রিফান্ডেবল টিকিট বাতিল হয়ে গেলে প্রায় হাজার চল্লিশেক টাকা সোজা জলে চলে যাবে!”

তবে বিধিবাম! শুটিংয়ের সব কাজ শেষ হতে হতে কাঠমান্ডু অভিমুখে যাওয়ার প্রধান পাহাড়ি রাস্তাগুলি হড়পা বান ও ধসের কারণে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গাড়ি চালিয়ে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে স্থানীয় ও স্থানীয় ফ্লাইট খোঁজ করা হলেও পোখরা বিমানবন্দর থেকে উপলব্ধ সব বিমানের টিকিট মুহূর্তে ‘ফুল’ বা বুকড হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঠমান্ডু পৌঁছানো কিংবা বিমান ধরে কলকাতায় ফেরার সমস্ত দরজাই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় অভিনেতার সামনে।

এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশে ফিরতে বিকল্প পথের সন্ধান চালাতে শুরু করেন খরাজ ও তাঁর সহকর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসন ও খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন যে, কাঠমান্ডুর রাস্তা বন্ধ থাকলেও পোখরা থেকে সরাসরি ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর সীমান্তগামী সড়ক পথটি এখনও পর্যন্ত সচল রয়েছে। এই একটিমাত্র রাস্তাই আপাতত উন্মুক্ত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সেই পথেই রওনা হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুটিং টিম।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সড়কপথে পোখরা থেকে বের হয়ে গোরখপুরে প্রবেশ করবেন তাঁরা। যদিও বৃহস্পতিবার গোরখপুর থেকে কলকাতার সরাসরি কোনো উপযুক্ত বিমান মেলেনি, তাই শুক্রবার (২৮ তারিখ) সকালের একটি ফ্লাইটের টিকিট কাটতে সমর্থ হয়েছেন তাঁরা। ওই বিমানে চড়েই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেপালের ভয়াল পরিবেশ, পাহাড়ি রাস্তায় জল জমে থাকা এবং ঘন জঙ্গল-ঘন কুয়াশার মধ্যে দিয়ে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা কম চ্যালেঞ্জিং নয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কাটিয়ে কতটা নিরাপদে অভিনেতা কলকাতায় ফিরে আসেন, আপাতত সেই চিন্তাতেই দিন গুনছেন তাঁর অগনিত অনুরাগী ও ঢালিউড-টলিউডের সিনেমা প্রেমীরা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved