Last updated: August 26th, 2026 at 05:37 pm

নিউজ ডেস্ক: সিএবি-র (Cricket Association of Bengal) প্রশাসনিক অন্দরে গৃহদাহ ও চরম অস্বস্তির হাওয়া কি ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে? নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক জটিলতায় যখন ময়দানের ক্রিকেট রাজনীতি উত্তপ্ত, ঠিক তখনই বঙ্গ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে ঘিরে সামনে এল এক অভাবনীয় খবর। আগামী ক্রিকেট মরশুমের রূপরেখা তৈরি এবং জেলা ক্রিকেটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনার জন্য ১৮টি জেলাকে নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাত্র দুটি জেলার প্রতিনিধি হাজির হওয়ায় সেই বহুল চর্চিত বৈঠক ভেস্তে যেতে বাধ্য হল! যা ঘিরে বর্তমান সিএবি প্রশাসনের ওপর জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ক্ষোভ বা বয়কটের প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২০ জুলাই। সেবার জেলাশাসকদের পক্ষ থেকে আসা একগুচ্ছ চিঠির জেরে সিএবি-র যুগ্ম-সচিব পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনও পক্ষ থেকেই কোনও মনোনয়ন জমা পড়েনি। সেই ঘটনার পর আবহ কিছুটা শান্ত করার লক্ষ্যে এবং জেলা স্তরের ক্রিকেট কাঠামো পুনর্গঠন করতে সিএবি সভাপতি নিজেই উদ্যোগী হন। আগামী মরশুমের বার্ষিক পরিকল্পনা ও কাঠামোগত বিষয় আলোচনার জন্য গত ২০ অগাস্ট দুপুর দুটোয় ইডেন গার্ডেন্সে ১৮টি জেলার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান সৌরভ। স্বাভাবিক প্রশাসনিক চ্যানেলের বাইরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট নিজেই গত ৫ অগাস্ট সরাসরি প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (District Magistrates) চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে স্পষ্ট বার্তা ছিল— সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) জেলার হয়ে যাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা, তাঁদেরই যেন এই বিশেষ বৈঠকে পাঠানো হয়।
কিন্তু এত কিছুর পরও বৈঠকে মিলল চরম ব্যর্থতা। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ২০ অগাস্ট নির্ধারিত সময়ে ইডেন গার্ডেন্সে ১৮টি জেলার মধ্যে উপস্থিতি দেখা যায় মাত্র দু’টি জেলার প্রতিনিধির! হাজির ছিলেন কেবল হাওড়া এবং নদীয়া জেলার প্রতিনিধিরা। সিএবি কর্তারা বাকিদের জন্য বিকেল চারটে পর্যন্ত টানা দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু আর কোনও জেলা প্রতিনিধি ইডেনের দরজা না পেরোলে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটি বাতিল করে দিতে হয়। যদিও পরবর্তীতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজের ঘরে ডেকে উপস্থিত দু’জন জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছুটা সময় কথা বলেন, তবে তা কোনও সিদ্ধান্তমূলক আলোচনার জায়গায় পৌঁছায়নি।
ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি বা নির্দেশিকা পাঠানোই নিয়ম। সরাসরি জেলাশাসকদের কাছে চিঠি পৌঁছানোর ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ময়দানের এক অভিজ্ঞ সিএবি কর্তা। তাঁর মতে, যেহেতু জেলাশাসকরা পদাধিকার বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কার্যকরী প্রধান (Ex-officio), তাই স্পেশ্যাল জেনারেল মিটিংয়ের আবহে হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সেই রণকৌশল বুমেরাং হয়ে জেলাগুলোর একাংশের বিরাগভাজন বা উদাসীনতারই কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিএবি প্রশাসনের বড়কর্তারা পুরোপুরি বয়কট বা ব্যর্থতার তত্ত্ব মানতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে সিএবি-র সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন (অনু) দত্তকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিষয়টি কিছুটা হালকা করে দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, “বৈঠকে সবাই আসতে পারেননি ঠিকই, তবে আটজনের মতো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন ভার্চুয়ালিও যুক্ত ছিলেন।” কিন্তু ভেতরের খবর অন্য কথা বলছে। সংস্থারই একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, ওই দিন জেলা সাব-কমিটির একটি আলাদা বৈঠক ছিল এবং সহ-সভাপতি সম্ভবত সেই বৈঠকের সঙ্গেই পুরো বিষয়টি গুলিয়ে ফেলছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৪ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়েও একটি বৈাঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানেও কোনও প্রতিনিধি না আসায় বৈঠক স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সূচিতে আয়োজন করতে হয়।
অ্যাপেক্স কাউন্সিলের গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক ও এজিএম-এর প্রস্তুতি
বিতর্কের মেঘের মধ্যেই বুধবার বিকেল পাঁচটায় ইডেনের প্রশাসনিক ভবনে বসছে সিএবি-র বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠক। ক্রিকেট মহলের নজর এখন এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকেই সিএবি-র আগামী বার্ষিক সাধারণ সভার (AGM) চূড়ান্ত দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সম্ভবত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হতে চলেছে এই হাইভোল্টেজ সাধারণ সভা।
এছাড়াও বর্তমান সচিব বাবলু কোলের বয়স ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁর ছেড়ে দেওয়া শূন্য পদ এবং দীর্ঘদিন খালি থাকা যুগ্ম-সচিব পদ— এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভোটের রূপরেখা তৈরি হবে। পাশাপাশি, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হতে চলা সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের নামগুলোও এদিন সিলমোহর পাবে। এ বছর আজীবন কৃতিত্বের সম্মান (Lifetime Achievement Award) পেতে চলেছেন প্রাক্তন তারকা স্পিনার উৎপল চট্টোপাধ্যায় এবং বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হচ্ছেন তরুণ ব্যাটার সুদীপ কুমার ঘরামি। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের প্রশাসনিক লড়াইয়ে আপাতত জমজমাট সিএবি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments